সিলেটে কে বসবেন নগরপিতার আসনে?

প্রকাশিত: ৭:২৭ অপরাহ্ণ, জুন ২০, ২০২৩

সিলেটে কে বসবেন নগরপিতার আসনে?

মঙ্গলবার দিবাগত রাত পোহালেই শুরু হবে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। পূণ্যভূমি সিলেটের নির্বাচন নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই রাজনৈতিক ও সচেতন মহলে। প্রচারের প্রথমদিকে প্রার্থীদের তেমন অভিযোগ না থাকলেও শেষ সময়ে প্রার্থীদের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে উত্তাপ ছড়িয়েছে ভোটের নগর সিলেটে।

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ জাতীয় পার্টি। জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী সরকার দল আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। অপরদিকে অবাধ, সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ ভোট হলে বিপুল ভোটে লাঙ্গলের জয় হবে বলে আশা বক্ত্য করেছেন জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুল।

অপরদিকে, এই ভোট নিয়ে কাউন্সিলর প্রার্থীদের উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে স্থানীয়দের মধ্যে। সিটি করপোরেশন গঠনের পর এটি হচ্ছে পঞ্চম নির্বাচন। প্রায় পাঁচ লাখ ভোটার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট দিবেন। ইতিমধ্যে ভোটগ্রহণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে নির্বাচনী সরঞ্জাম।

রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিস সূত্র জানা গেছে, এবারই প্রথম সিলেট সিটি করপোরেশনের সব কেন্দ্রের ভোট হবে ইভিএম পদ্ধতিতে। বুধবার (২০ জুন) সন্ধ্যার মধ্যে মহানগরের আবুল মাল ক্রীড়া কমপ্লেক্স থেকে ইভিএম মেশিনসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম ১৯০টি কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

মোট আট জন প্রার্থী মেয়র পদে নির্বাচন করছেন। তাদের মধ্যে থেকে কে হচ্ছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের আগামী ৫ বছরের জন্য নগরপিতা- তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। যতই কৌতুহল থাকুক- সেটি জানা যাবে বুধবার সন্ধ্যার পর ভোট গণনা শেষে।

গত কয়েকদিন ধরেই বৃষ্টি হচ্ছে সিলেটে। দেখা দিয়েছে বন্যার শঙ্কাও। বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় কয়েকটি ভোটকেন্দ্রেও পানি উঠে গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে বুধবার ভোটের দিনও বৃষ্টি হতে পারে সিলেটে। এজন্য কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কমতে পারে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ফয়সল কাদের।

ফয়সল কাদের বলেন, বৃষ্টির কারণে ভোটে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। বৃষ্টির মধ্যে ভোটার কেমন আসবেন এখনই বলা যাচ্ছে না। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে ভোটারেরা আসবেন। ভোটের জন্য সব কেন্দ্র প্রস্তুত থাকবে। মেয়র ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে আসবেন। চার-পাঁচটা কেন্দ্রের মাঠে পানি উঠেছে। ওসব কেন্দ্রে পানি নিষ্কাশনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভোট গ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবারের ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে থাকছে সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি।

ঢাকা থেকে নির্বাচনী কেন্দ্রগুলো সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করবে নির্বাচন কমিশন। এজন্য সবগুলো কেন্দ্রেই লাগানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। ঢাকা থেকে কেন্দ্রগুলোতে সার্বক্ষণিক নজর রাখবে ইসি। ইতোমধ্যে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ১৭৪৭টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সিসিক নির্বাচনে মোট ১৯০টি কেন্দ্র থাকছে। যেখানে স্থায়ী ভোটকক্ষ থাকবে ১ হাজার ৩৬৭টি এবং অস্থায়ী ভোটকক্ষ থাকবে ৯৫ টি। এসব কেন্দ্রে থাকছে একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা। ১৯০টি কেন্দ্রে মোট ১৭৪৭টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ভোট পরিস্থিতি সিসি ক্যামেরায় তদারকি করবে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরবিচ্ছিন্ন করতে মহানগরীতে কাজ করছে প্রায় ২৬০০ পুলিশ সদস্য। এছাড়া মাঠে থাকবেন ১৪ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ৪২টি ওয়ার্ডে ৪২ জন নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট। নির্বাচনে কোনো বিশৃঙ্খলা হলে তারা তাৎক্ষণিক ব্যাবস্থা করবেন। প্রতিটি টিমের সাথে থাকবে ১ প্লাটুন বিজিবি।

মঙ্গলবার (২০ জুন) সকালে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্সে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান এসএমপি কমিশনার মো. ইলিয়াছ শরিফ এসব তথ্য জানান।

এসএমপি কমিশনার জানান, নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১ জন পুলিশ পরিদর্শক, ১ জন উপ পুলিশ পরিদর্শক ও ৫ জন পুলিশ সদস্য এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১ জন পুলিশ পরিদর্শক, ১ জন উপ পুলিশ পরিদর্শক ও ৪ জন পুলিশ সদস্য এবং ৭ জন নারী ও ৭ জন পুরুষসহ মোট ১৪ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি জানান, নির্বাচন উপলক্ষে প্রতি সাধারণ ওয়ার্ডে একটি করে পুলিশের ৪২ টি মোবাইল টিম, প্রতি তিনটি সাধারণ ওয়ার্ডে একটি করে ১৪ টি ট্রাইকিং টিম এবং প্রতি থানায় একটি করে ৬ টি রিজার্ভ স্ট্রাইকিং টিম থাকবে। পাশাপাশি থাকবে ২ টি ওয়ার্ডে ১ টি করে র‍্যাবের ২২ টি ও ৫ টি ওয়ার্ডে এক প্লাটুন করে মোট ১০ প্লাটুন বিজিবির টহল টিম।

সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, এদের মধ্যে দলীয় মনোনীত চার প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী (নৌকা), জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুল (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী হাফিজ মাওলানা মাহমুদুল হাসান (হাতপাখা) ও জাকের পার্টির মো. জহিরুল আলম দলীয় প্রতীক (গোলাপফুল) মার্কায় নির্বাচন করবেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আবদুল হানিফ কুটু (ঘোড়া), মো. ছালাহ উদ্দিন রিমন (ক্রিকেট ব্যাট), মো. শাহ জাহান মিয়া (বাস গাড়ি) ও মোশতাক আহমেদ রউফ মোস্তফা (হরিণ) প্রতীকে নির্বাচন করছেন।

এছাড়াও কাউন্সিলর পদে ৩৫৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যাদের মধ্যে ২৭২ জন সাধারণ ওয়ার্ডে এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ডে (নারী কাউন্সিলর) ৮৭ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

২৭ ওয়ার্ড নিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশন থাকলেও বর্ধিত ১৫টি ওয়ার্ড নেয়ে সিসিকে এখন মোট ওয়ার্ড সংখ্যা ৪২টি। ৭৯ দশমিক ৫০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই মহানগরীতে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৭৫৩ জন। এরমধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৬৩, নারী ২ লাখ ৩৩ হাজার ৩৮৪ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গ বা হিজড়া ভোটর রয়েছেন ৬ জন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ