টানা বৃষ্টিতে সিলেটে জলবদ্ধতা

প্রকাশিত: ১০:২২ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৪, ২০২৩

টানা বৃষ্টিতে সিলেটে জলবদ্ধতা

সকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে সিলেট নগরীতে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। শহরের নিচু এলাকার অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কিছু বিপণীবিতানে পানি ঢুকে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া জলাবদ্ধতার কারণে যানবাহন ধীর গতিতে চলায় অনেক সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে ভোগান্তি পোহাতে হয় নগরবাসীকে।

বুধবার (১৪ জুন) ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত সিলেটে ৪৬ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

সিলেট আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার রাতে ও আজ বুধবার সকালে সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি হয়েছে। আজ ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ৪৬ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এটা স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত। আজ বুধবারও সারাদিন থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সকালে সরজমিনে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টির ফলে নগরীর মদীনা মার্কেট, আখালিয়া, সুবিদবাজার, জালালাবাদ, হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার এলাকার পায়রা ও রাজারগল্লি, বারুতখানা, হাওয়াপাড়া, যতরপুর, ছড়ারপাড়, তালতলাসহ বেশ কিছু নিচু এলাকার সড়ক বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়। এছাড়া, বারুতখানা এলাকার কয়েকটি দোকান এবং দর্শনদেউড়ি, জালালাবাদ হাউজ, ইদ্রিস মার্কেট ও জিন্দাবাজারের রাজা ম্যানশন ও চৌহাট্টার কিছু দোকানে ভেতরে ঢুকে পড়ে পানি। রাস্তায় হাঁটুসমান পানি থাকায় যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। ধীরগতির যানবাহন চলার কারণে অনেক সড়কে দেখা দেয় যানজট।

টানা বৃষ্টিতে নগরীর বেশ কয়েকটি এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ ও এলাকাবাসী দোষারোপ করছেন নগর কর্তৃপক্ষকে। তারা এই জলাবদ্ধতার জন্য সিটি করপোরেশনের উদাসীনতাকে দায়ী বলে মনে করছেন।

নগরীর রাজারগলি এলাকার বাসিন্দা কাওসার আহমদ বলেন, সবাই সামনের সিটি ও জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। এই দুর্ভোগ দেখার যেন কেউ নেই। তিনি অভিযোগ করেন, ড্রেনেজ সিস্টেম যদি সঠিক সময় সংস্কার করে রাখা হতো, তাহলে এই ভোগান্তি জনগণকে পোহাতে হতো না। বারবার এই ভোগান্তির পর সিসিকের টনক না নড়ায় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান জানান, বেশি পরিমাণ বৃষ্টির কারণে ড্রেন দিয়ে পানি নামতে সময় লাগছে। সিটি করপোরেশনের টিম কাজ করছে। কোথাও ময়লা-আবর্জনার জন্য পানি আটকে গেলে তা পরিষ্কার করে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সিলেট সিটি এলাকায় যে ড্রেনগুলো নতুন করে করা হয়েছে সেগুলো আরও বড় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদাররা সেই ড্রেইনগুলো তৈরির সময় অনেকটা সরু করে ফেলেছেন। তাই সঠিকভাবে এসব ড্রেন দিয়ে পানি না নামায় নগরের এই জলাবদ্ধতা। ড্রেইনগুলোকে আরও বড় করতে পাড়লে হয়তো নগরে আর জলাবদ্ধতা থাকবে না।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ