সিলেটে পর্যটন খাতে মন্দাভাব

প্রকাশিত: ১২:২৩ অপরাহ্ণ, মে ৬, ২০২৩

সিলেটে পর্যটন খাতে মন্দাভাব

ঈদকে ঘিরে সিলেটের পর্যটন খাতে মন্দার প্রভাব পড়েছে। প্রত্যাশিত পর্যটকের অভাবে হোঁচট লাগায় এই শিল্প নতুন সঙ্কটের আভাস দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থনৈতিক খাতে সুদিন না ফিরলে এ খাতও চাঙ্গা হবে না। তাদের মতে ব্যবসার এই উপযুক্ত সময়ে আর্থিক সংকটে পর্যটক কমছে। ফলে করোনা সঙ্কট কাটিয়ে উঠলেও বিরাজমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে নতুন করে সঙ্কটে পড়ছে সম্ভাবনার এ খাত।

এবার ঈদের লম্বা ছুটিতে দূর-দূরান্তের পর্যটকদের আনোগোনা আগের তুলনায় নেই। হোটেল-রিসোর্টগুলো প্রস্তুত করেও আশানুরূপ পর্যটক মেলেনি। তবে ঈদের ছুটিতে স্থানীয় দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিলো। তাদের পদচারণায় রাত পর্যন্ত মুখর সিলেট ও মৌলভীবাজারে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র।

সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনা চলাকালীন তারা ভয়াবহ সঙ্কটে পড়েছিলেন, কোন রকম টিকে থাকতে পেরেছেন। তবে এখনও স্বাভাবিক অবস্থায়ও ক্ষতি গুণতে হচ্ছে। কিন্তু এরই মধ্যে ডলারের দামের সাথে পণ্যের বাজারে অস্থিরতায় ধাক্কা খায় এ খাত। কিন্তু ঈদ ঘিরে নতুন প্রত্যাশা করলেও তা আর পূরণ হয়নি। মন্দার কারণে ভরা মৌসুমেও তা হোঁচট খেয়েছে।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট একজন ব্যবসায়ী জানান, প্রতি বছর ঈদ সিজনে তাদের প্যাকেজ পরিপূর্ণ থাকে, কিন্তু বর্তমানে হাতেগোনা পর্যটক ভ্রমণে বের হচ্ছেন। তার মতে, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে মানুষ বাড়তি খরচ করতে চাইছেন না। সবমিলিয়ে ভ্রমণকারীরা অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। ফলে এমন সঙ্কট তৈরি হয়েছে।

সিলেট হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা যায়, এই সংগঠনের সদস্যভুক্ত হোটেল-রিসোর্ট রয়েছে ৩৪টি। তবে সিলেটে ছোট-বড় মিলিয়ে হোটেল-রিসোর্ট রয়েছে দুই শতাধিক। আর বিভাগে এই সংখ্যা পাঁচ শতাধিক। পর্যটকদের সবচেয়ে পছন্দের জায়গা মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল। বছরজুড়েই এই উপজেলা শহরে পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে। গত অর্ধযুগে কেবল শ্রীমঙ্গল শহরেই গড়ে উঠেছে শতাধিক রিসোর্ট।

হোটেল মালিক সমিতির এক নেতা জানান, সাধারণত সারা বছরের মধ্যে ঈদে সিলেট, মৌলভীবাজারসহ বিভাগের সব পর্যটন কেন্দ্র পর্যটকে পরিপূর্ণ থাকে। করোনার পর কিন্তু এই প্রথম স্থানীয় পর্যটক ছাড়া বাইরের পর্যটক খুবই কম ছিলেন। বিষয়টি স্বীকারও করেছেন সমিতির আরো এক নেতা। তিনি বলেন, প্রতি বছর ঈদ ঘিরে যেখানে হোটেলে রুম দেয়া কষ্টকর হতো সেখানে এবার হাতেগোনা পর্যটক ছিলেন। তিনি বলেন, এই সঙ্কট কখন কাটবে তা ধারণা করা মুশকিল।

সিলেট ট্যুরিজম ক্লাবের সভাপতি হুমায়ুন কবীর লিটন বলেন, সিলেটে পাহাড়, ঝর্ণা, নদী, হাওর, অরণ্য, চা বাগান কিংবা জলারবন- কী নেই? দল বেঁধে ঘুরে বেড়ানো মানুষের অভাবও কখনও হয়নি এখানে। তবে ইদানীং সেই আগ্রহে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। এর প্রমাণ এবার ঈদে সিলেটের পর্যটনস্পটে ছিলো না আশানুরুপ পর্যটক। আগে যেভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানুষ বেড়াতে আসতেন, এবার তারা সেভাবে আসেননি। এবার বেড়াতে আসাদের প্রায় সবাই তরুণ। তারা ঘুরেফিরে চলে গেছেন। হোটেলে থাকেননি। থাকলেও অপেক্ষাকৃত কম ভাড়ার হোটেলে থাকছেন। ফলে তিন ও চার তারকা মানের হোটেল ও রিসোর্টগুলো সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ে।

তিনি বলেন, ঈদসহ বিশেষ দিনকে ঘিরে পর্যটনস্পটগুলো গড়ে উঠেছে সিন্ডিকেট। নৌকা ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও তা মানা হচ্ছে না। পর্যটকদের কাছ থেকে ইচ্ছেমত ভাড়া হাকান চালকরা। মাঝিরা নৌকা ভাড়াও বাড়তি রাখছেন। এসব কিষয় নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন।

সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাহমিন আহমদ বলেন, সিলেটে তেমন ভারী শিল্পকারখানা নেই। ট্র্রেডিং, পর্যটন আর আমদানি-রপ্তানিই এখানকার প্রধান ব্যবসা। তাছাড়া ব্যবসার অন্যতম খাত হলো পর্যটন। করোনা ও গত বন্যায় পর্যটন ব্যবসায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবারের ঈদকে টার্গেট করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। হোটেল-মোটেলসহ সংশ্লিষ্টরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিলেও আশানুরুপ পর্যটক না আসায় ব্যবসায়ীরা লোকসানের সম্মুখীন হয়ে পড়েছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ