ম্যাকার্থি-সাই বৈঠকের পর চীনের সামরিক মহড়া শুরু

প্রকাশিত: ৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৬, ২০২৩

ম্যাকার্থি-সাই বৈঠকের পর চীনের সামরিক মহড়া শুরু

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন এখন যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন। স্থানীয় সময় বুধবার (৫ এপ্রিল) মার্কিন হাউস স্পিকার কেভিন ম্যাকার্থির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। আর এই বৈঠকের পরই সামরিক মহড়া শুরু করেছে চীন।

বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ​​ইং-ওয়েন এবং মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের স্পিকার কেভিন ম্যাকার্থির মধ্যে বহুল প্রত্যাশিত বৈঠকের প্রতিক্রিয়ায় চীন সামরিক মহড়া শুরু করেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার রোন্যাল্ড রেগন প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি ভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বিবিসি বলছে, ম্যাকার্থির সঙ্গে বৈঠকে সাই যুক্তরাষ্ট্র-তাইওয়ানের ‘দৃঢ় এবং অনন্য অংশীদারিত্বকে’ স্বাগত জানান। অন্যদিকে তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রাখতে হবে বলে জানান ম্যাকার্থি।

অবশ্য তাইওয়ান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই দুই নেতা যখন রোন্যাল্ড রেগন প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি ভবনে আলোচনার জন্য ঢুকছেন, তখন সেখান দিয়ে একটা ছোট বিমান উড়ে যাচ্ছিল। আর সেটাতে ঝুলছিল একটা ব্যানার। তাতে লেখা ছিল ‘চীন একটাই। তাইওয়ান চীনের অংশ’।

বৈঠকের পর সাই খুব বড় বিবৃতি দেননি। তিনি বলেন, তাইওয়ান এখন সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের পাশে থাকায় তিনি কৃতজ্ঞ।

সাইয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরের এই সময়টাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাইওয়ান নিয়ে চীন সম্প্রতি তাদের তৎপরতা বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এই সফর যথেষ্ট তৎপর্যপূর্ণ। এর আগেও সাবেক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি তাইওয়ান সফর করার পর তাইওয়ান-বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছিল।

গত বছরের আগস্টে পেলেসির সেই সফরের পরপরই তাইওয়ানের চারপাশ ঘিরে সামরিক মহড়া শুরু করেছিল চীন।

এদিকে এই বৈঠকের জবাবে ‘জোরালো প্রতিক্রিয়া’ দেখানোর ঘোষণা দিয়েছে চীন। এছাড়া সাই ​​ইং-ওয়েন ও কেভিন ম্যাকার্থির মধ্যকার বৈঠকের পরই স্ব-শাসিত তাইওয়ান দ্বীপের চারপাশের পানিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে বেইজিং।

সংবাদমাধ্যম বলছে, তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ম্যাকার্থির বৈঠকের পরপরই তাইওয়ান প্রণালীর কাছে চীনের দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী মহড়া শুরু করেছে। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, তাদের ভূখণ্ডের পূর্বদিকের দুইশো নটিক্যাল মাইলের কাছে পৌঁছে গেছে চীনের এই রণতরী।

এছাড়া চীনের আরেকটি এয়ারক্র্যাফট কেরিয়ার আগেই তাইওয়ানের দক্ষিণে বাশি চ্যানেলে পৌঁছে গেছে।

চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার রিপোর্ট বলছে, ম্যাকার্থির সঙ্গে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের বৈঠকের পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি দিয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার জন্য চীন যে কোনও পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের মধ্য়ে যে যোগাযোগ রয়েছে, তা সাইয়ের সফর থেকে স্পষ্ট হয়েছে।

উল্লেখ্য, তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-সহ পশ্চিমা দেশগুলোর দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা চলছে। তাইওয়ান পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপ, যা তাইওয়ান প্রণালীর পূর্বে চীনা মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত। অবশ্য তাইওয়ানকে বরাবরই নিজেদের একটি প্রদেশ বলে মনে করে থাকে বেইজিং।

২০২১ সালে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছিলেন, মূল ভূখণ্ডের সাথে তাইওয়ানের পুনরেকত্রীকরণ অবশ্যই সম্পূর্ণ করতে হবে। এজন্য সামরিক পথে অগ্রসর হওয়ার বিষয়টিও খোলা রেখেছে বেইজিং।

অন্যদিকে চীনের প্রদেশ নয়, বরং নিজেকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র বলে মনে করে থাকে তাইওয়ান। চীনা প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যের জবাবে সেসময় তাইওয়ান জানায়, দেশের ভবিষ্যৎ তার জনগণের হাতেই থাকবে। তবে তাইওয়ানকে চীনের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে বেইজিংয়ের চেষ্টার কমতি নেই।

প্রসঙ্গত, ১৯৪৯ সালে চীনে কমিউনিস্টরা ক্ষমতা দখল করার পর তাইওয়ান দেশটির মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যদিও তাইওয়ানকে বরাবরই নিজেদের একটি প্রদেশ বলে মনে করে থাকে বেইজিং। এরপর থেকে তাইওয়ান নিজস্ব সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে।

এস এ